অফিসার অন ডিউটি (২০২৫)
মারাত্মক একটা ছবি। প্রতি মুহূর্তেই থ্রিল। শুরুটা একটু ধীরে কিন্তু তারপর গল্প যেভাবে জমে ওঠে তাতে স্ক্রিন থেকে চোখ সরানো যায় না। সরালেই মনে হয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু একটা বুঝি মিস করে গেলাম। দুই ঘণ্টা ১৭ মিনিটের ছবি। দেড় ঘণ্টায় গিয়ে মনে হলো কাহিনীতো শেষ। এরপর আর কি দেখাবে? কিন্তু তারপর যা দেখালো তাই আসলে ছবির সব। আগেরগুলো ছিল ইন্ট্রোডাকশন।
একটা ভালো ছবিতে যা যা দরকার সব আছে এই ছবিতে। গল্প, টানটান স্ক্রিনপ্লে, টানটান সিনেমাটোগ্রাফি, অভিনয়, এডিটিং। সবগুলো ডিপার্টমেন্টে দুর্দান্ত কাজ হয়েছে।
সবচেয়ে ভালো কাজ হয়েছে চিত্রনাট্যে। স্ক্রিনপ্লে এত চমৎকারভাবে সাজানো যে দর্শকরা খুব দ্রুত এনগেজ হয়ে যান। ছবির পরতে পরতে রহস্য, যেমন ইটের উপর ইট গেঁথে সাজানো হয়। রাইটার শাহী কবির থ্রিলারের জন্য বিখ্যাত। তিনি নিজেও একজন ডিরেক্টর। জোসেফ, নায়াত্তুর মত সিনেমার স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। এলা ভিজা পুনচিরা, রন্থ ছবি দুটি ডিরেক্ট করেছেন।
এরপর বলবো সিনেমাটোগ্রাফির কাজ। একটা থ্রিলার ছবির সিনেমাটোগ্রাফি যেমন হওয়া দরকার তেমনই হয়েছে। নিখুঁত এবং ফাস্ট। ক্যামেরার মাধ্যমে দারুণ সব আবহ তৈরি করা হয়েছে। ওপেনিং সিনটার কথাই বলা যায়। নাটকীয়তার শুরু ক্যামেরার দারুণ কাজের মাধ্যমে।
সিনেমাটির বেশিরভাগ দৃশ্য রাতের দৃশ্য। দিনের আলো ছাড়া শুটিং করা বেশ ঝক্কির কাজ। লাইট এবং কালার ঠিকমত না হলে দৃশ্যটি ফুটিয়ে তোলা যায় না, মার খেয়ে যায়। কিন্তু এই ছবিতে রাতের দৃশ্যগুলো এত জীবন্ত হয়েছে যে মুগ্ধ হতে হয়। বেশ কয়েকটি চেজিং সিন আছে রাতে, গতি এবং আলোর খেলা ঠিক রেখে মাথা নষ্ট কাজ করেছেন সিনেমাটোগ্রাফার রোবি ভার্গসে রাজ।
রাতের দৃশ্যগুলো খুবই জমজমাট, বিশেষ করে লাইটের কাজের কথা বলতে হয় রাতের দৃশ্যগুলোতে। রাতের বেলা বাসের ভেতরে বেশ কয়েকটি দৃশ্য রয়েছে।
বেশি ভালো লেগেছে গীতার বাবার বাসার এনভায়রনমেন্টে অ্যাকশন দৃশ্যগুলো। সিনেমাটোগ্রাফি যেমন স্ক্রিনপ্লেকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছে তেমনি সিনেমাটোগ্রাফিকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছে এডিটিং এবং মিউজিক।
লাস্ট বাট নট দ্য লিস্ট, অভিনয়। কেউ কারো চেয়ে কম বা পিছিয়ে নেই। সবাই সবার জায়গায় পারফেক্ট। ডিএসপি হরিশংকর এর চরিত্রে কুনচাকাও বোবান অনবদ্য। একে তো পুলিশ অফিসার, তার উপর কেসের সাথে পার্সোনাল ইনভল্ভমেন্ট, দুটি মিলিয়ে চরিত্রটি মারাত্মক চ্যালেঞ্জিং। পুলিশ এবং বাবার চরিত্রের মধ্যে যে ইমোশনাল ব্যালেন্স করা দরকার সেটা তিনি চমৎকারভাবে করেছেন। আর ছবিটি উপভোগ্য হয়েছে নেতিবাচক চরিত্রের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জন্য। তাদের প্রত্যেকের অভিনয় মাথা নষ্ট। সত্যিকারের ড্রাগ এডিক্ট, সাইকো হয়ে উঠেছেন একেকজন। পর্দায় উপস্থিতির পর থেকেই এরা ভয় পাইয়ে দিয়েছেন রীতিমত।
বিশেষ করে বলতে হয় ক্রিস্টি স্যাভিওর চরিত্রে অভিনয় করা ভিশাক নায়ার এর কথা। কস্টিউম ছিলো মারাত্মক। রক্ত হিম করা এক ভিলেন হয়ে উঠেছেন তিনি।
আর এই সবকিছুকে এক সুতোয় গেথেছেন যিনি তিনি পরিচালক জিতু আশরাফ। এই ছবিতে অভিনয়ও করেছেন তিনি। ছবি শুরুই হয়েছে তাকে দিয়ে। ইন্সপেক্টর জোসেফ চেম্বোলার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এর আগে তিনি নায়াত্তু, এলা ভিজা পুনচিরা ছবিতে চিফ অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন।
এই ছবির টিমটা আগে থেকেই দুর্দান্ত সব কাজ করে এসেছে এবং একসাথে এর দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। ফলে টিমওয়ার্ক হয়েছে ফাটাফাটি আর তার সুফল পেয়েছেন দর্শকরা, দারুণ এক থ্রিলার ছবি উপভোগ করতে পেরেছেন তারা।

