বনলতা এক্সপ্রেস (২০২৬)

বনলতা এক্সপ্রেস এর গল্পটাকে হুমায়ূন আহমেদের মত করেই এগিয়ে নিয়ে গেছেন চিত্রনাট্যকাররা। অনেক কিছু নতুন যোগ করেছেন যা গল্পটার সঙ্গে মানিয়ে গেছে সুন্দরভাবে। মজার মজার ডায়লগ আছে।

স্টুডিওতে বানানো বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটাও ছিল নিখুঁত। সেট ডিজাইন চমৎকার হয়েছে। তবে ট্রেনে দুলুনি কম ছিল। আরেকটু দুলুনি থাকলে আরও বাস্তবসম্মত হতো।

অভিনয় সবচেয়ে ভালো লেগেছে মায়ের চরিত্রে শামীমা নাজনীনের। তারপর শ্যামল মাওলার।

মোশাররফ করিম ছিলেন ম্যাজিকাল। এক ফ্রেমে মোশাররফ-চঞ্চল ধরা থাকলেন বাংলা ছবিতে, এটা দর্শকদের জন্য মনে রাখার মত অভিজ্ঞতা।

নিতু চরিত্রে বাচ্চা মেয়েটার অভিনয় মুগ্ধ করেছে। মলম আলমের ক্যারেক্টারটা আনন্দ দিয়েছে।

পুরোপুরি হতাশ করেছেন শরিফুল রাজ। চরিত্রটাকে তিনি ধরতেই পারেননি। এত ভালো ভালো ডায়লগ পেয়েও সব মিসফায়ার করেছেন। সাবিলা নূর রিস্কি হলেও রাজের মত ফেইল করেননি, লেটার মার্কস না পেলেও ভালোভাবে পাশ করেছেন।

কমার্শিয়াল ভ্যালু আনতে গিয়ে রাজ-সাবিলাকে নেয়া হয়েছে এটা সহজেই অনুমেয়। তবে ছবি দেখতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে ডাক্তার আশহাবের চরিত্রে জাফর আর চিত্রার চরিত্রে যদি রুবি চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা-অভিনেত্রী থাকতেন তারা রাজ-সাবিলার চেয়ে ভালো করতেন, ছবিটা আরো প্রাণবন্ত হতো।

ছবিজুড়ে নানা ট্রিবিউট আর ক্যামিও রয়েছে। সেগুলো ভালো লেগেছে। চঞ্চল চৌধুরীর পুরো পরিবারকে (স্ত্রী-সন্তান) এক ফ্রেমে দেখা গেছে। লেখক স্বাধীন এবং সামিউলের ক্যামিও ভালো লেগেছে।

নুহাশ হুমায়ূন, জীবনকৃষ্ণ মেমোরিয়াল হাইস্কুল, অনীল বাগচী, বাকের ভাই, হাবলঙ্গের বাজার। হুমায়ূন আহমেদের প্রতি তাদের এই ভালোবাসা ভালো লেগেছে। ভালো লেগেছে আইয়ুব বাচ্চুর প্রতি ট্রিবিউটও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *