ব্ল্যাক, হোয়াইট অ্যান্ড গ্রে: লাভ কিল্স (২০২৫)

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিত।

একটা ঘটনা, কিন্তু নানা দিক। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষদের একেকজনের বয়ান, একেক রকম। তাই দর্শক বারবার চেষ্টা করলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে না।

ডকুমেন্টারি এবং ফিকশন দুই স্টাইলের সম্মিলনে বানানো সিরিজটা আপনাকে কনফিউজ করবেই। মনে হবে সত্যি ঘটনা অবলম্বনে তৈরি। কিন্তু আসলে পুরোটাই ফিকশনাল।

একদম নতুন অভিনেতাদের দিয়ে ডকুমেন্টারি পার্ট শ্যুট করা হয়েছে, সিনেমাটোগ্রাফি এবং আর্ট ডিরেকশনের কারণে একদম সত্যি মনে হয় ডকু পার্টটা। ফিকশনে কিছু চেনা মুখ বাদে বাকি সব অভিনেতা নতুন।

নতুনদের নিয়ে দারুণ এক সিরিজ বানিয়েছেন নির্মাতা পুষ্কর মহাবল। এটা তার ডেব্যু সিরিজ।

শ্রেণীভেদ, সামাজিক বৈষম্য, আইনের অপব্যবহার এই সবকিছু নির্মাতা দেখিয়েছেন একটা ভালোবাসার গল্পকে কেন্দ্র করে।

দেবেন ভোজানিকে প্রথম সিরিয়াস চরিত্রে দেখলাম। এই অভিনেতা কমেডিয়ান হিসেবে বেশি পরিচিত। তিগমাংশু ধুলিয়া মারাত্মক, অল্প সময় কিন্তু যতক্ষণ স্ক্রিনে ছিলেন বাকি অভিনেতারা তার কাছে গৌণ। ময়ূর মোরে খুবই দারুণ। এত অল্প বয়সে এত পরিণত।সামনে আরো ভালো কাজ তার কাছ থেকে আশা করি।

নির্মাণ এবং চিত্রনাট্য দুর্দান্ত হলেও গল্পটা ঠিক বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। যে চারটা মার্ডারের কথা বলা হয়েছে, গল্পের খাতিরে দুটো মার্ডারের লজিক মেনে নেয়া যায়। কিন্তু ইন্সপেক্টর চৌহান আর ড্রাইভার সানির মার্ডার লজিক্যাল মনে হয়নি।

আবার চৌহান আর সানির মধ্যকার আলাপের খবর প্রাইম সাসপেক্টের জানার কথা না কিন্তু ডকুমেন্টারিতে সে সেই সাবজেক্ট নিয়ে কমেন্ট করে যা মোটেও লজিক্যাল না। গল্পটা নিখুঁত হয়নি। গল্পে বেশকিছু গোঁজামিল আছে। এছাড়া বাকিসব দারুণ।

শেষে যে ক্লু রেখে গেছে সেটা আরও অনেক নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। হয়তো সেকেন্ড সিজনের জন্য সেটা রেখে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *