প্রেশার কুকার (২০২৬)
সারপ্রাইজিংলি এটা প্রথমে রায়হান রাফীর ছবি মনে হয়নি। ছবির প্রেজেন্টেশন, কালার, লুক অ্যান্ড ফিল রাফীর আগের ছবি পরাণ, তান্ডব, তুফান থেকে একদম আলাদা। ডিরেক্টর তার পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়েছেন সেটা বোঝা গেছে।
ছবির সিনেমাটোগ্রাফি সেরা হয়েছে। যোয়াহের মুসাব্বির সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে বাড়ির নাম শাহানা ছবিতে দুর্দান্ত কাজ করেছিলেন। প্রেশার কুকার-এ তিনি আরো ভালো করেছেন, বিশেষ করে ছবির ওপেনিং সিনটার কথা বলতেই হবে। দারুণ দক্ষতার সাথে সিনটা শ্যুট করেছেন তিনি। স্পা পার্লারে আলোর খেলাগুলো চমৎকার ছিলো। ট্রেনের ভেতরের সিনগুলো সুন্দর, বিশেষ করে ট্রেনের দুলুনিটা পর্দায় অত্যন্ত বাস্তব লেগেছে। মাদ্রার দৃশ্যগুলো অতি চমৎকার। গাড়ির ভেতরের প্রত্যেকটা সিন দুর্দান্ত।
নাজিফা তুষির স্ক্রিন প্রেজেন্স অনেক বেশি। এটা চাইলেই কমানো যেত। তুষি তার মত চেষ্টা করেছেন। মোটামুটি বলা যায় তার অভিনয়।
রিজভী রিজু চমৎকার অভিনয় করেছেন। এই ছবিতে তন্ময় চরিত্রে তার অভিনয় সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে।
নেগেটিভ চরিত্রে আজিজুল হাকিম অসাধারণ। অভিনেতা হিসেবে নিজেকে তিনি আরেকবার নতুন করে প্রমাণ করলেন এই ছবিতে।
ব্যাড কপ চরিত্রে ফজলুর রহমান বাবু ভালো করেছেন।
নির্মাণ দেখে মনে হয়েছে এটি শুরুতে ওয়েব সিরিজ হিসেবে লেখা এবং নির্মাণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে সিনেমা হিসেবে রিলিজ করা হয়েছে। তিন ঘণ্টা দৈর্ঘ্য এই ছবির জন্য অনেক বেশি। গল্পটা কাটছাট করে দুই ঘণ্টায় রাখা যেতে। অযথা পরিশ্রম কমতো। মূলত তুষি এবং মারিয়া এই দুটো ক্যারেক্টারের পরিবারের গল্প দিয়ে ছবিটা সুন্দরভাবে শেষ করা যেত। বুবলি এবং স্নিগ্ধা চৌধুরীর ক্যারেক্টার দুটো সিনেমাতে তেমন প্রভাব ফেলেনি। অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে।
ডিরেক্টর হিসেবে রাফী সত্যি চমকে দিয়েছেন। এ ধরণের এক্সপেরিমেন্টাল কাজ তার থেকে আরো আশা করি।

