অপারেশন সফেদ সাগর (২০২৬)
কারগিল যুদ্ধ নিয়ে নতুন অনেক কিছু জানলাম। এর আগে বলিউডে যত ছবি হয়েছে কারগিল নিয়ে সেখানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা বা বীরত্ব দেখানো হয়েছে। কিন্তু এই সিরিজ দেখে মনে হলো কারগিল যুদ্ধ জয়ে প্রধান কৃতিত্ব বিমান বাহিনীর।
ইম্পসিবল সব মিশন করেছে তারা যা কোনো বিমানবাহিনী এর আগে করেনি। এসব আনকনভেনশনাল স্ট্র্যাটেজি সিরিজের মূল আকর্ষণ। নির্মাতারা গল্পটা খুব ভালোভাবে বলতে পেরেছেন। সেই সাথে ভিজ্যুয়াল এফেক্টস এবং সাউন্ডের মাধ্যমে মিড-এয়ার কমব্যাট সিনগুলো বাস্তব করে তুলেছেন। এই সিরিজের ভিজ্যুয়াল খুবই সুন্দর। সিরিজ না হয়ে সিনেমা হলে বড় পর্দায় দেখতে খুব ভালো লাগতো।
অভিনেতারা সবাই দারুণ অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে জিমি শেরগিল এবং সিদ্ধার্থের কথা প্রথমে বলতে হয়। তারপর পারভেজ মুশাররফের চরিত্রে মানু রিচি চাডার অভিনয় এবং লুক নিয়ে বলতে হয়। আরো অনেক রিয়েল লাইফ চরিত্র থাকলেও পারভেজ মুশাররফের লুক ছিল সবচেয়ে ক্লোজ। অনেক সময় মনে হয়েছে সত্যিই যেন পারভেজ মুশাররফ। কারগিল যুদ্ধে মুশাররফ একটা ভাইটাল ক্যারেক্টার। মানু রিচি এই ক্যারেক্টারের সাথে জাস্টিস করতে পেরেছেন।
বলিউড ন্যারেটিভে সাধারণত পাকিস্তানের কাউকে ভালো দেখানো হয় না। তবে এখানে নওয়াজ শরীফকে বেশ পজিটিভভাবে দেখানো হয়েছে। বাবার সাথে সম্পর্ক, পারিবারিক ইতিহাস, শান্তির জন্য আন্তরিক চেষ্টা এবং পারভেজ মুশাররফের সাথে দ্বন্দ্ব সবক্ষেত্রে দেখানো হয়েছে নওয়াজ শরীফ আসলে শান্তিই চেয়েছিলেন।
সে কারণে কারগিল যুদ্ধের জন্য দায় গিয়ে পড়ে পুরোপুরি পারভেজ মুশাররফের উপর। যুদ্ধ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই নওয়াজকে সরিয়ে পারভেজ মুশাররফ ক্ষমতা দখল করে। এও আরেক কাহিনী। এটা নিয়ে আরেকটা সিনেমা/সিরিজ হতে পারে।

